মাদারীপুরে ট্রাক নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতি:ছয় স্বর্ণের দোকানসহ আটটি প্রতিষ্ঠানে লুট, আহত ১

মাদারীপুরে ট্রাক নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতি: ছয় স্বর্ণের দোকানসহ আটটি প্রতিষ্ঠানে লুট, আহত ১

মাদারীপুরের সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত মিনি ট্রাক নিয়ে এসে একযোগে ছয়টি স্বর্ণের দোকানসহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়েছে। এ ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতদের হামলায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে একটি মিনি ট্রাক নিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হাউসদি বাজারে প্রবেশ করে। সে সময় পুরো বাজার এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকায় ডাকাতরা নির্বিঘ্নে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

ডাকাতরা প্রথমে “প্রিয়াংকা জুয়েলার্স” নামের একটি স্বর্ণের দোকানে হানা দেয়। এ সময় পাশের দোকানে অবস্থানরত রাজমিস্ত্রি মিলন মোল্লা ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

এরপর ডাকাতদল ধারাবাহিকভাবে আরও পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে লুটপাট চালায়। এর মধ্যে দুটি দোকান থেকে পুরো সিন্দুক ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় তারা। শুধু স্বর্ণের দোকানই নয়, পাশের একটি মুদি দোকান ও একটি কসমেটিকসের দোকানেও লুটতরাজ চালানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সদিপ মণ্ডল জানান, তার দোকানে নিজের সম্পদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বন্ধক রাখা স্বর্ণালঙ্কারও ছিল। এক রাতেই সবকিছু হারিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখন তিনি গ্রাহকদের কীভাবে জবাব দেবেন, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন।

এই ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বাজারে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও ওঠেছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণ, এক হাজার ভরি রুপা এবং কয়েক লাখ টাকা লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, জনবহুল একটি বাজারে ট্রাক নিয়ে এসে এমন পরিকল্পিত ও বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় নিরাপত্তা সংকট আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *